Sharif Osman Hadi and recent bangladeshi issues



কিছু কথা না বললেই নয় ,অনেকেই অপেক্ষায় আছে তাঁর ইতিহাস মুছে ফেলার অপেক্ষায়।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদী, বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক আবেগের,আদর্শের,এক মহান নেতার নাম। 

যতই সুনাম করি কম পরে যাবে, তার আচার ব্যবহার অত্যন্ত নম্র ভদ্র,যেমন ধার্মিক তেমন সামাজিক, নৈতিক ,সূক্ষ্মভাবে যেকোনো ঘটনা অনুধাবণ বিশ্লেষণকারী। যেকোনো বিষয়ে সঠিক মন্তব্য করতে গেলে,সমাজের জন্য সঠিক পথ দেখাতে গেলে  আপনার সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের দরকার হবে , সেক্ষেত্রে ওসমান হাদির এক একটা টকশো দেখলে আপনি তাঁর জ্ঞানের গভীরতা সহজে বুঝতে পারবেন। সবাই সমাজ যেভাবে চলছে সেভাবে চলতে দিতে চায় কারণ কেউ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে চায় না  চাইলেও পরিবারের চিন্তায় আর হয়ে ওঠেনা , সেই ভয় কাটিয়ে সমাজ পরিবর্তন করতে চাওয়া বীর মানসিকতার এক নাম হাদী । বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এখন যেমন চলছে "এক নেতার ,দলের নাম দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চাঁদাবাজি,সন্ত্রাস,জিম্মি করে রাখা, টাকা দিয়ে ভোট কিনা,চামচামি করে চলা মানুষ,সরকার থেকে দেওয়া সাধারণ দরিদ্র মানুষের ভাতা মারে খাওয়া, বিভিন্ন প্রকল্পের ১০% অর্থ দিয়ে প্রকল্প ,৯০% রাজনৈতিক দলের পেটে যাওয়া, লেজুড় বৃত্তিক দল অপসারণ(বড় দল চালাতে সারাদেশে চাঁদাবাজি করাকে বৈধতা) ,বিভিন্ন কোম্পানির নিজের ভেজাল পণ্যের ব্যবসার জন্য সাংসদ সদস্যকে ঘুষের মাধ্যমে ব্যবসা চালায় যাওয়া ,সিন্ডিকেট ইত্যাদি সকল বিষয়ে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। 

পরিবর্তন আসলে হয়তো" যত বড় চোর বাটপার তত বড় নেতা," "ভালো মানুষ রাজনীতি করেনা "মানুষের এসব চিন্তা দূর হতো।

শুধু রাজনৈতিক দিক নয় তিনি অপসাংস্কৃতিক প্রোপাগান্ডা(ভারতীয় অপসংস্কৃতি প্রচারক ,মাদক,বেহায়াপনা ,সমকামিতা,অশালীন কাপড় পরা normalize করা উদীচী,ছায়ানট,চারুকলা), মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা(সংবাদ মাধ্যম যেগুলো বিদেশি চিন্তাধারা তুলে ধরে বাংলাদেশের মানুষকে প্রভাবিত করতো)সকল বিষয়ে কথা বলে গেছেন।

এই পরিবর্তন আসলে অনেকের স্বার্থে আঘাত হানতো ,তারাই তাঁর মৃত্যুর কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক।

ওসমান হাদী তার শত্রুর সাথেও আমৃত্যু ইনসাফ চেয়েছেন, বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করতে চেয়েছেন। যিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবনটা পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন, তাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনভাবেই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন না হয় সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখবার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।  

 শরীফ ওসমান বিন হাদীর জন্ম: ৩০ জুন ১৯৯৩ - ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫। ছিলেন একজন বাংলাদেশী কবি , দূরদর্শী লেখক, দার্শনিক ,এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিপ্লবী রাজনৈতিক নেতা। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং মুখপাত্র ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর, তিনি যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন, বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যের বিরোধিতা, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি তার সমর্থন এবং আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তার অংশগ্রহণের জন্য তিনি বিখ্যাত। 

হাদী ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন, আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। হাদী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অফ স্কলার্সের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কাজ করেন। 


১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে, হাদীকে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলি করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাকে বিমানে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিন দিন পর তিনি মারা যান।  তার মৃত্যুর ফলে দেশব্যাপী মিডিয়া হাউস, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্থান এবং কূটনৈতিক মিশনগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সহিংস ঘটনা ঘটে। 

হাদী হত্যার পিছনে অনেকে অনেক যুক্তি খাড়া করতেছে যেমন  :: " হাদি হত্যার মূল কারণ ভারত বিরোধিতা নয়।

হাদি টার্গেট হয়েছে কমপক্ষে ১০০ কারণে। তার অন্যতম ১টা বলি?

বাংলাদেশে এমপি ইলেকশন করতে গেলে ১০-১০০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। এক হাদি পুরো প্রক্রিয়াকে উল্টে দিয়েছিল। জনগণ ভালোবেসে তাকেই টাকা দিচ্ছিলো। যেটা এদেশে বিদ্যমান রাজনীতির জন্য একটা অশনিসংকেত।

এমপিদের কাজ হচ্ছে, ভোটের সময় মিথ্যা আশ্বাস আর টাকা দিয়ে ভোট কিনে নেওয়া। নির্বাচিত হয়ে ৫ বছর জনগণের রক্ত চুষে খাওয়া। হাদি এই পুরো খেলাটাকেই উল্টে দিচ্ছিলো। ফলে, এদেশের পেশাগত রাজনীতিবিদদের চোখের কাটা হয়ে গেছিলো সে। একই পথে হাসনাত আব্দুল্লাহও এগিয়ে গেছে। গতকাল দেখলাম: তাসনিম জারাও ইলেকশনের করার জন্য ডোনেশন ক্যাম্পিং করছে। যা এই বাংলায় সম্পূর্ণ নতুন।

জনতাও কম না, প্রচুর উৎসাহে সাড়া দিচ্ছে। মাত্র ২২ ঘণ্টায় ৩৭ লক্ষ টাকা উঠে গেছে। (টার্গেট ৪৬ লক্ষের কিছুটা বেশি) এরা টার্গেট কিলিং-এর শিকার হবে না, দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন আর ভারতের পা-চাটা গোলামরা হবে?

রাজনীতিতে যখন পেশিশক্তি ও কালো টাকার বদলে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শুরু হয়, তখন কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল যে হিংস্র হয়ে ওঠে। তার অন্যতম চাক্ষুষ নিদর্শন হাদিকে হ*ত্যা। "


পর্যাপ্ত সময় ও তথ্যের অভাবে তাঁর সকল চিন্তাধারা তুলে ধরতে পারলাম না ,


তবে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের সৎ চিন্তার মানুষ তাকে সারাজীবন মনে রাখে যতবার তাঁর কথা সত্য প্রমানিত হবে, মানুষ ততবার শহীদ জিয়া,আবরারের সাথে তাকে স্মরণ করবে। 


তিনি বলে গেছিলেন ৬০,৭০,৮০ বছর বেঁচে কি করবেন যদি দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে না পারেন, চিন্তা ধরার পরিবর্তন করে ইমপ্যাক্ট ফেলতে না পারেন, আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছে এই স্বল্প জীবনে আসলেই তিনি দেশের মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এর প্রমাণ আমরা তার জানাজার জনসমুদ্রে পাই।পুরা দেশ তাঁর মৃত্যুতে শোক পালন করে,শুধু তাই নয় দেশের ইতিহাসে বিরল কবর দেওয়ার পর কয়দিন ও অনেকে তার কবর যিয়ারতের সময় গিয়েছে চোখের পানি ফেলেছে। অনেক পিতা, মাতা তাঁর মত সন্তান চায় । মৃত্যুর পূর্বে তিনি বলে গিয়েছিলেন একটা মানুষের জন্য এর চেয়ে বেশি কি আর পাওয়ার থাকে।আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুক।



শহীদ ওসমান হাদিকে কবরস্থ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে, রাষ্ট্রীয় শোক ও পালন করা হয়। তাঁর জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড,ইউনূস সহ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বর্গ অংশ গ্রহণ করে ,অনুষ্ঠিত হয় জাতিয় সংসদ মাঠে। পুরা দুনিয়ার সংবাদ মাধ্যম এই খবর প্রচার করে ।হাদী নৈতিক দিকের সাথে সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতির চর্চা কেমন হওয়া উচিৎ দেশের অপসংস্কৃতি প্রচারক দের দেখায়ে  গেছে ,তারা অবশ্য একটাও প্রতিবাদ জানায়নি আওয়ামীলীগের গণহত্যার সময়, বা হাদী হত্যার সময়। 

দেশের মানুষ এখনো অশ্রু শিক্ত, হত্যাকারী একবারও হাদির ছোট শিশুর কথা চিন্তাও করেনি। ফজরের নামাজের পর রাজনৈতিক প্রচার করা এই নেতাকে সৎ মানুষ ভালবাসবে  এটাই স্বাভাবিক। অপরদিকে বন্ধু বেসে থাকা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ,আওয়ামীলিগ অপেক্ষায় আছে কখন মানুষ হাদী হত্যার কথা ভুলে যাবে আর কখন তারা ইতিহাস বিকৃত করবে। 

আগের বছর ২০০০+ ছাত্র,শিশু,সাধারণ মানুষ হত্যাকারী , বিডিয়ার হত্যাকাণ্ড,শাপলা হত্যাকাণ্ড , আইনাঘরে সাধারণ মানুষ জিম্মি করে নির্যাতন করা(বলে শেষ করা যাবেনা) খুনি আওয়ামীলীগ সরকার, তার গণহত্যায় সাহায্যকারীদের কি বলে? হ্যাঁ রাজাকার বলে । সেই রাজাকার ছাএলীগ ,যুবলীগ আর ও যত লীগ আছে (বেশিরভাগ ই এখন গুপ্ত পরিচয়ে চলে ভিতরে ঠিকই লীগ লালন করে)  তাদের কি নূন্যতম বিবেক আছে ? ভালো মন্দ ঠিক ভুল বোঝার ক্ষমতা আছে? 

কেউ থাকবে সত্যের পথে কেউ থাকবে চাটার আর শয়তানের পক্ষে  , এখন তোমাকে বেছে নিতে হবে তুমি কুলাঙ্গার না সুপুরুষ





আবার কিছু সাময়িক ঘটনায়


আমরা যদি ভারতের মত নিজেদের minorities( সংখ্যা লঘু সমাজের) সাথে একই রকম ব্যবহার করি তাহলে তাদের আর আমাদের ভিতর তফাৎ কি থাকলো? বিচার বহির্ভূত নিজের হাতেই সব ক্ষমতা তুলে নেওয়ার ভিতর অনেক ভয়ংকর ত্রুটি থাকতে পারে যেমন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অবমাননার নাম দিয়ে কাউকে ফাঁসানো। বাঙালি ,ভারতের মতোই কুলাঙ্গার জাতি ,হিসাব করে দেখবেন দেশের ৯৫% দৈনন্দিন কাছে ব্যবহার্য খাদ্যবস্তু ভেজালে ভরা।সেখানে নিজেদের হতে ক্ষমতা তুলে নেওয়ার অধিকার আসে কিভাবে যাচাই ছাড়া? 

অবশ্য এগুলা নিয়ে তেমন কথা বলা হচ্ছেনা কারণ ভারতীয় মিডিয়া আসল ঘটনা বাদ দিয়ে সারাদিন এটাই প্রচার করে বাঙালি হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান এর ভিতর যে ঐক্য আছে/ ছিল সেটা ভাঙার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে,প্রায় ভুয়া খবর পর্যন্ত প্রচার করে নিজেদের কুকর্মের সবকিছু চাপা দিয়ে দেয় বিভিন্ন ন্যারেটিভ ইউজ করে যেমন জিহাদী। 

তার প্রভাবে লক্ষ্য করবেন আমাদের minority ধীরে ধীরে আমাদের যেই ঐক্য/ শান্তির সম্পর্ক ছিল সেটা আর বিশ্বাস করেনা ,ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন তারা কখনও আওয়ামীলীগ,ভারত বিরোধী কোনো কথা পর্যন্ত সোস্যাল মিডিয়ায় বলার প্রয়োজন বোধ করেনা। ২০২৪ সালের যেই ২০০০+ ছাত্র,শিশু ,সাধারণ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনা( বললেও খুবই নগণ্য), বোঝার দরকার আওয়ামীলীগ,ভারত শুধু তাদের ব্যবহার করছে নিজের স্বার্থ হাসিলে।

যেমন একটা উদাহরণ দেয় ,  জেনে অবাক হবেন হায়দ্রাবাদ আলাদা দেশ হিসেবে গঠন করা হয়েছিল,ব্রিটিশ পরবর্তী আমলে ভারত,পাকিস্তানের মতই । ঠিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে ভারত হায়দ্রাবাদ দখল করে।

ভারত ১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর 'অপারেশন পোলো' (Operation Polo) নামক একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিজাম শাসিত হায়দ্রাবাদ রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে, যা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে নিজাম মীর উসমান আলীর শাসনের অবসান ঘটে। এমন ভাবে সেভেন সিস্টার্স ও যুক্ত। বাংলাদেশের সাথে এত সহজে এরকম না হলেও তারা প্রোপাগান্ডা ছড়াতেই আছে। 

প্রতিবাদ হোক সকল স্তরে ,সবসময় ,ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে








































 






























































Post a Comment

0 Comments